বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে এসইউবি’র আলোচনা অনুষ্ঠান ‘বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ’

১৭ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এসইউব)-এর উদ্যোগে আজ (১৬ মার্চ ২০২২) এরধানমন্ডিস্থ নিজস্ব ক্যাম্পাসে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট এর সভাপতি, স্থপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোবাশ্বের হোসেন।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এসইউবির ট্রেজারার প্রফেসর ড. হাসান কাওসার। উক্ত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো: আনোয়ারারুল কবির এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এসইউবির প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক নওজিয়া ইয়াসমিন। স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন তাঁর প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, ১৯৬০-এর দশকে পাকিস্তান সিভিল সার্ভিসে বাঙালির সংখ্যা ছিল খুবই নগন্য–৫ থেকে ৭ শতাংশ। ঐ অবস্থায় খুব স্বাভাবিকভাবেই বৈষম্য ও বঞ্চনার বোধ থেকে আমাদের মধ্যে তখন এক ধরনের গুমোট কষ্ট ও ক্ষোভ ক্রমশই জোরদার হচ্ছিল। আমরা তখন আমাদের জন্য একজন নেতা ও অভিভাবক চাচ্ছিলাম। বস্তুত সে নেতা ও অভিভাবক হিসেবেই আবির্ভূত হন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

মোবাশ্বের হোসেন আরো বলেন, ১৯৭২ সালে একটি সদ্যস্বাধীন নতুন দেশের অর্থনীতিকে বঙ্গবন্ধুএ দেশের খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও প্রত্যাশার সাথে সঙ্গতি রেখে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। আর তা করার লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন যেসব উদ্যোগ নিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল একটি শক্তিশালী পরিকল্পনা কমিশন গড়ে তোলা এবং সেখানে তিনি দেশের সবচেয়ে মেধাবী দেশপ্রেমিক মানুষদেরকে নিয়োজিত করেছিলেন যাতে তারা দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ নিম্নকন্ঠের সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সমুন্নত রাখতে সদা তাগিদ বোধ করেন। তিনি সবসময় চাইতেন শহরায়ন পরিকল্পনা যেন শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক না হয়, উন্নয়নের পরিকল্পনা সারা বাংলাদেশব্যাপী করার ব্যাপারে তিনি সবসময় পরামর্শ দিতেন।

ট্রেজারার প্রফেসর ড. হাসান কাওসারবলেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ বস্তুতই এক অভিন্ন সত্তা। বঙ্গবন্ধু তাঁর ঐতিহাসিক ৬ দফা ঘোষণার মাধ্যমে পরোক্ষে বাঙালির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাকেই তুলে ধরেন। ছয় দফার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন আসলে বাঙালি জাতিসত্ত্বার সার্বভৌমত্বেরই প্রতিষ্ঠা। পরবর্তীতে একাত্তরের ৭ই মার্চ তিনি যে ভাষণ দেন, তা অনেকটা ৬ দফারই সম্প্রসারণ। বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের অর্জন বস্তুত তাঁর রেখে যাওয়া সেসব সিদ্ধান্তেরই ফসল। তিনি বলেন, তিনি শারীরিকভাবে না থাকলেও তাঁর আদর্শের উপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির তাঁর সভাপতির ভাষণে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অকাল অন্তর্ধান না ঘটলে বাংলাদেশ আজ আরো বহুদূর এগিয়ে যেত। তিনি বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাসের এক ক্ষণজন্মা মহামানব বলে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পটভূমি নির্মাণে বঙ্গবন্ধুর নানা ঐতিহাসিক ভূমিকার উল্লেখ করতে যেয়ে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে হলেও নিজের দূরদর্শী, প্রজ্ঞা ও মননশীলতার কারণে সহসাই তিনি তাঁর নেতাকেও অতিক্রম করে যান। তিনি তাঁর অদম্য সাহসী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানীতে আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বিরোধীপক্ষের আইনজীবীকে তিনি বলতে বিন্দুমাত্র কুন্ঠিত হননি যে, সময় আসলে তিনি তাকে দেখে নেবেন।

অধ্যাপক অনোয়ারুল কবির বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার নানা অর্থনৈতিক নানা সূচকের মধ্যে নাগরিকদের আয়ুষ্কাল, শিশুমৃত্যুর হার, মাথাপিছু আয়, শিক্ষার হার ইত্যাদির উল্লেখ করে বলেন যে, এসব তথ্য বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্ন নির্মাণে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী চিন্তারই ফসল। আজ সবক্ষেত্রেই আমরা পাকিস্তানের চেয়ে অনেকদূর এগিয়ে আছি।

অধ্যাপক ডাঃ নওজিয়া ইয়াসমিন তার সমাপনী বক্তব্যে দেশের নতুন প্রজম্মের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, তোমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সঠিক ভাবে ধারণ করে এগোতে পারো, তাহলে এখনো আমাদেরযেসব অনর্জন রয়েছে, অচিরেই সেগুলোও অর্জিত হয়ে যাবে। তিনি বাঙালির প্রতিবাদী ও সংগ্রামী চেতনাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য এক অনন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন। তিনি অনুষ্ঠানে আগত সকলের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

অনুষ্ঠানেস্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের রেজিস্ট্রার, ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং শেষ অংশে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় গান ও কবিতা আবৃতি হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এসইউবির বিজনেস স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষকউম্মে নূসরাত উর্মি।